প্রকাশিত:
২৪ আগষ্ট ২০২৪, ১৪:২৬
সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শহীদুজ্জামান সরকারসহ পাঁচজনের নামে চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা, হয়রানি ও হুমকির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। নওগাঁর আমলি আদালত-৪-এ মঙ্গলবার বিকেলে মামলাটি করেন পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার হরিরামপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা শামসুল হক।
মামলার অন্য আসামীরা হলেন নজিপুর পৌরসভার সদ্য সাবেক মেয়র ও পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবির চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ অরুণ, নজিপুর পৌরসভার সরদারপাড়া মহল্লার বাসিন্দা রেজাউল মামুদ স্বপন ও মোজাহারুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার হরিরামপুর মৌজায় শামসুল হক ওয়ারিশ সূত্রে ১৫ শতক জমি পেয়ে ২০১৬ সাল থেকে ভোগদখল করে আসছিলেন।
ওই বছরেই সম্পত্তিটিতে তিনটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন শামসুল হক। ওয়ারিশ সূত্রে জমিটি পাওয়ার পর থেকেই নজিপুর সরদারপাড়া রেজাউল মামুদ ও মোজাহারুল ইসলাম ওই সম্পত্তি তাদের বলে দাবি করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করতে থাকেন।
বৈধ কাগজপত্রের অভাবে জমিটি দখল করতে ব্যর্থ হওয়ার পর তাঁরা নওগাঁ-২ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার ও নজিপুর পৌরসভার মেয়র রেজাউল কবির চৌধুরীর ছত্রছায়ায় প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ওই সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন।
একপর্যায়ে বাদী শামসুল হক বিরোধ নিরসনে সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকারের কাছে গেলে তিনি ওই জমির দখল বুঝে দেয়ার জন্য তার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ অবস্থায় শামসুল হক ওই জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করলে পত্নীতলা সহকারী জজ আদালত বিরোধপূর্ণ ওই জমির ওপর স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চাঁদার টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী শহিদুজ্জামান সরকারের নির্দেশে পত্নীতলা থানা পুলিশ শামসুল হক ও তার ছেলেকে পত্নীতলা থানায় ৮ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন চালায়।
মিথ্যা মামলা ও হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর থেকে রেজাউল মামুদ ও মোজাহারুল ইসলাম অবৈধভাবে দখল করে ভোগদখল করে আসছেন।
বাদীর আইনজীবী মনসুর আলী বলেন, ‘সাবেক প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকারকে এক নম্বর আসামি করে মোট পাঁচজনকে মামলার বিবাদী করা হয়েছে। অন্যরা হলেন নজিপুর পৌরসভার সদ্য সাবেক মেয়র ও পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবির চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ অরুণ, নজিপুর পৌরসভার সরদারপাড়া মহল্লার বাসিন্দা রেজাউল মামুদ স্বপন ও মোজাহারুল ইসলাম।’
আদালত বাদীর অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন বলেও জানান বাদীর আইনজীবী মনসুর আলী।
প্রিয় নওগাঁ/এফএস
মন্তব্য করুন: