প্রকাশিত:
২৯ সেপ্টেম্বার ২০২৪, ১৯:০৪
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু বানিয়েছেন, এখানে অনেক টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল তৈরি করতে পুকুর চুরি করেছেন। শুধু পুকুর চুরি নয়; নদী চুরি নয়, সাগর চুরি নয় একেবারে মহাসাগর চুরি করেছেন।
রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাজশাহী মহানগর ও জেলায় শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা মনে করেছিলেন, বাংলাদেশকে তিনি একেবারে চিরদিনের জন্য জমিদারি বানিয়ে ফেলেছেন। তিনি মনে করেছিলেন বাংলাদেশটা তার বাপ দাদার সম্পত্তি। কিন্তু তার ধারণা ছিল না এই দেশ পাকিস্তানের হাতে বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিল। তিনি ভুলে গেছেন একটা ছোট্ট শিশু স্বৈরাচার পতনের জন্য নিজের জীবন দিতে পারে। যদি এটা বুঝতেন তাহলে তিনি দেশের ক্ষতি করতেন না।
তিনি আরো বলেন, অন্য কোনো দেশ থেকে প্রেসক্রিপশন দেওয়া যাবে না। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছেন ভালো কথা, তবে আশ্রয় দিয়ে তার কথামতো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীল কিছু করতে চাইলে আখেরে ফলাফল ভালো হবে না। বাংলাদেশ সিকিম বা ভুটান নয়। পার্শ্ববর্তী দেশের পলিসি মেকার, নীতিনির্ধারক যারা তাদেরকে বলে রাখতে চাই- বাংলাদেশ ১৮ কোটি মানুষের দেশ।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সব রাজনৈতিক দল সমর্থন দিয়েছে। সবাই সহযোগিতা করতে চায়। কিন্তু প্রশাসনের মধ্যে যদি এমন লোক থাকে, যারা শেখ হাসিনার ১৬-১৭ বছর ক্ষমতা থাকাকালীন ফ্যাসিবাদ লুণ্ঠনে সহায়তা করেছে, তারা একটি বিপ্লবের সরকারকে কখনোই সমর্থন দিতে পারে না। তারা যদি ক্যাবিনেট সেক্রেটারি হয়, সচিব হয়, গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে বসেন তাহলে নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে এই সংস্কার বাস্তবায়ন হবে না। এরা সংস্কার ব্যর্থ করে দেবে।
প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করলেও তা উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন, কেন উদ্ধার হবে না সেটি জানতে চাই। অস্ত্র উদ্ধার না হলে দেশ অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় হবে। শেখ হাসিনা কি ভারতে থেকে উপলব্ধি করছেন জুলুম করে, নির্যাতন করে, জনগণের ওপর দমনপীড়ন চালিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না?
রিজভী বলেন, ভয়ংকর দোজখ থেকে পরিত্রাণ পেয়েছি। আগে রাজশাহীতে এসে প্রাণ নিয়ে ফিরে যেতে পারব কি না, তা সংশয় থাকত। বিএনপির সাংগঠনিক সংগঠনের বাইরে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমে বিএনপির নির্যাতিত, নিহত পরিবারকে তারেক রহমান ১৫ বছর ধরে দেখে আসছেন।
রাজশাহী নগর বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মামুন-অর-রশীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপিসহ এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রিয় নওগাঁ/বিএম
মন্তব্য করুন: