priyonaogaon@gmail.com শনিবার, ৫ই এপ্রিল ২০২৫, ২১শে চৈত্র ১৪৩১
ব্রেকিং:
  • জানুয়ারি থেকে স্কুল-কলেজের সব শিক্ষকের এমপিও ইএফটিতে***, যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের সঙ্গে বসতে চান পুতিন***, রোববার শপথ নেবেন নতুন ইসি***, স্বচ্ছ নির্বাচন করে উদাহরণ সৃষ্টি করতে চান নতুন সিইসি***, জনগণ যাতে ক্ষমতার মালিক হতে পারেন তেমন দেশ গড়তে চাই: ড. ইউনূস***, এক যুগ পর সেনাকুঞ্জে খালেদা জিয়া***, দুদকের তালিকায় ৩ শতাধিক প্রভাবশালী***,

ওসির বিচার দাবিতে সড়কে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মা

বগুড়া

প্রকাশিত:
১ অক্টোবার ২০২৩, ১৭:২৫

সংগৃহিত

ধর্ষণের বিচার চেয়ে ২০২২ সালের ১৯ মে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিল বগুড়ার ধুনট উপজেলার এক স্কুলছাত্রী। মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মেলে। আসামিও আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। কিন্তু ধর্ষণের সময় ধারণ করা ভিডিও নষ্ট করেন ধুনট থানার তৎকালীন ওসি কৃপা সিন্ধু বালা।

সেটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে প্রমাণ হয়েছে। তবে ঘটনার প্রায় দেড় বছর পার হলেও মামলার অগ্রগতি নেই। ধর্ষণের আলামত নষ্ট করা সেই ওসি এখনও বহাল তবিয়তে। অন্যদিকে বিচার দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগীর মা।

ধর্ষণের বিচার দাবিতে নিবার বগুড়া শহরের সাতমাথায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তিনি। প্রায় এক ঘণ্টা তিনি সাতমাথায় অবস্থান করেন। ওসি কৃপা সিন্ধু বালাকে মামলার অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তাঁর।

ওই স্কুলছাত্রীর মা বলেন, চার্জশিট মিলবে, তবে ধর্ষণের আলামত নষ্টকারী ওসি কৃপা সিন্ধু বালার নাম বাদ দিতে হবে– এমন শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিকার পেতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর আইজিপির কাছে লিখিত আবেদন করেন তিনি। একই আবেদনের একটি অনুলিপি দেওয়া হয় বগুড়ার পিবিআই কার্যালয়ে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৩ মার্চ দশম শ্রেণির ছাত্রীকে নিজ ঘরে ধর্ষণ করে জালশুকা হাবিবুর রহমান ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মুরাদুজ্জমান। দুটি মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে মুরাদুজ্জমান। তার বিরুদ্ধে ১২ মে ধুনট থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা।

ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২ আগস্ট ধুনট থানার তৎকালীন ওসি কৃপা সিন্ধু বালার বিরুদ্ধে ছবি ও ভিডিও নষ্ট করার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর মা। তিনি বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।

অক্টোবরে মামলা ও ওসির বিরুদ্ধে আলামত নষ্টের অভিযোগের তদন্তভার পায় পিবিআই। কৃপা সিন্ধু বালার বিষয়টি তদন্ত করেন বগুড়া পিবিআই এসপি কাজী এহসানুল কবির। ধর্ষণ মামলার আলামত নষ্টে ওসির সম্পৃক্ততা মিলেছে জানিয়ে গত ৩০ মার্চ আইজিপির দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেন তিনি।

এ ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার অগ্রগতি হয়নি। কৃপা সিন্ধু বালা ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ধুনট থানার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বর্তমানে পাবনা সদর থানার ওসি।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, মামলার সার্বিক অবস্থা জানার জন্য গত ৮ সেপ্টেম্বর এসপি কাজী এহসানুলের কার্যালয়ে যাই। তিনি আমাকে জানান, পিবিআই বগুড়ার প্রতিবেদনে কৃপা সিন্ধু বালার অপরাধ প্রমাণিত। কিন্তু পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার মামলার চার্জশিটে কৃপা সিন্ধু বালাকে বাদ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, ওই নারী বিভিন্ন জায়গায় এমন অভিযোগ করছেন। এগুলো আমাকে হয়রানি ও সম্মানহানির জন্য করা হচ্ছে।

ধর্ষণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই এসআই সবুজ আলী বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। শুনেছি মামলার আসামি মুরাদুজ্জামান জামিন পেয়েছেন। তবে আমার কাছে এ-সংক্রান্ত নথি নেই।

পিবিআই এসপি কাজী এহসানুল কবির বলেন, কৃপা সিন্ধু বালা চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হবেন না– এমন তথ্য দিইনি। তদন্ত এখনও চলছে। ধর্ষণের আলামত নষ্টের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তে পারিপার্শ্বিক প্রমাণ পেয়েছি। শিগগিরই তদন্ত শেষ হবে। অভিযোগকারী যাতে ন্যায়বিচার পান, সেটি অবশ্যই দেখব।

প্রিয় নওগাঁ/এফএস


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর